ফেনীর পরশুরাম উপজেলার এক আলোচিত ধর্ষণ মামলার তদন্তে বেরিয়ে এসেছে ভয়ংকর এক সত্য। প্রায় পাঁচ মাস ধরে ‘ধর্ষক’ পরিচয়ে কারাভোগ করা এক মক্তব শিক্ষক শেষ পর্যন্ত নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। আর তদন্তের মোড় ঘুরতেই সামনে আসে পরিবারের ভেতরে লুকিয়ে থাকা এক ভয়াবহ অপরাধের চিত্র।
২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর স্থানীয় মক্তব শিক্ষক ও ইমাম মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করে এক কিশোরীর পরিবার। অভিযোগ ওঠার পরপরই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। টানা ৩২ দিন কারাভোগের পাশাপাশি এলাকায় তাকে ঘিরে তৈরি হয় তীব্র সামাজিক চাপ ও অপমান। একপর্যায়ে চাকরিও হারাতে হয় ওই শিক্ষককে।
তবে মামলার তদন্ত যত এগোতে থাকে, ততই দেখা দিতে থাকে নানা অসঙ্গতি। অভিযোগকারী পরিবারের বক্তব্য, ঘটনার সময়কাল এবং অন্যান্য তথ্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে পুলিশ আধুনিক ফরেনসিক তদন্ত শুরু করে। এরপরই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
আরও পড়ুনঃ- ক্রাইম নিউজ
দেশের বাইরে বাংলাদেশি এমপির নজিরবিহীন খু'ন | MP Anwarul Azim
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযুক্ত শিক্ষক মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং কিশোরীকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতন করে আসছিল তারই আপন বড় ভাই মুর্শিদ। বিষয়টি ধামাচাপা দিতেই নির্দোষ শিক্ষককে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে ধারণা করছে তদন্তকারীরা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে কিশোরীর সন্তানের সঙ্গে মুর্শিদের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিল পাওয়া যায়। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ফলাফল বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত করে যে মুর্শিদই শিশুটির জৈবিক পিতা।
ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পুলিশ প্রকৃত অভিযুক্ত মুর্শিদকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। এদিকে দীর্ঘদিন মিথ্যা অপবাদ ও কারাভোগের শিকার হওয়া মোজাফফর আহমদ দাবি করেছেন, পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, নির্দোষ একজন মানুষকে এতদিন কারাভোগ করতে হলো কীভাবে? আর পরিবারের ভেতরে ঘটে যাওয়া এমন ভয়াবহ নির্যাতন এতদিন আড়ালে ছিল কেন—সেই প্রশ্নও এখন ঘুরছে জনমনে।
.jpg)